০৮ নভেম্বর ২০১৫

পীরগাছার রাজবাড়িতে অভিনব কৌশলে বিক্রি হচ্ছে গাঁজা


পীরগাছার রাজবাড়ি পাকারমাথা গাজা সহ বিভিন্ন নেশা বিক্রি করছে কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ। পীরগাছার রাজবাড়ি পাকারমাথা নামক স্থানে একদিকে সুদখোরের সংখ্যা বৃদ্ধি অপরদিকে নেশাখোরদের আড্ডা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো নেশা খোরদের এবং সুদখোরদের কবল থেকে রেহাই পেতে পুলিশ প্রশাসনের শুভ নেক দৃষ্টি কামনা করছেন। সন্ধার পর থেকে রাজবাড়ি পরিত্যাক্ত জায়গাগুলোতে গাজাখোরদের অত্যাচার বৃদ্ধি পায়।

দিঘির দক্ষিন পাশ্বে দুটি বাড়িতে মহিলা সহ একাধিক ব্যক্তি গাজা বিক্রি করে থাকেন। এই রাজবাড়ি স্থানটি গাজা বিক্রেতাকে সবাই চেনে। প্রশাসনের দোহাই দিয়ে এক শ্রেণীর ব্যক্তি প্রতি মাসে সেখান থেকে টাকা নেয়। পুলিশ প্রশাসন গোপনে ছদ্দবেশে গাজাখোর সেজে সেখানে যদি খাজাসহ ফেনসিডিল ইয়াবা খরিদ করতে যায় তাহলে গাজা বিক্রেতা সেই চিহ্নিত মানুষটিকে একদিকে চেনা যাবে। অপরদিকে আইনের হাতে আটক হবে। পুলিশের পোশাকে গেলে চা মিষ্টি খাওয়াবে যেহেতু পুলিশের সাথে ওদের সখ্যতা রয়েছে।

পীরগাছা রাজাবাড়িটি নেশার জগতে একটি চিহ্নিত স্থান। সম্প্রতি  পীরগাছা উপজেলায় ৬ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলিয়া ফেরদৌস জাহান এ-সাজা প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানায়, জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর’র পরিদর্শক আনোয়ারুল হাবিবের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভ্রাম্যমান আদালতে নেয়া হলে বিচারক আটক মনুরছড়া গ্রামের এখলাছুর রহমানকে ২ মাস, শরীফ সুন্দর গ্রামের আতোয়ার রহমানকে ৬ মাস ও শম্ভু চন্দ্রকে ১ মাস, নাগদহ গ্রামের দুলাল মিয়াকে ১ মাস, বানিয়াটারী গ্রামের আনোয়ার হোসেনকে ৬ মাস এবং গুয়াবাড়ি গ্রামের রুবেল মিয়াকে ১ মাস করে কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে তাদের জেল-হাজতে পাঠানো হয়।

পীরগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলামের নের্তৃত্বে সকল অফিসার প্রতিনিয়ত মাদক বিক্রেতা এবং মাদক সেবনকারীর দায়ে কমপক্ষে গত ৬ মাসে ৯০ জন অপরাধিকে গ্রেফতার করেন। এইসব অপরাধির বিরুদ্ধে কাউকে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা প্রদান করা হয়। অপরদিকে অনেকের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পীরগাছা থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত জামাত শিবিরের আসামীর ন্যায় মাদকাসক্ত আসামীদেরকে জেল হাজতে গ্রেফতার করছে।

রিপোর্টারঃ তোজাম্মেল হক মুন্সি

০৭ নভেম্বর ২০১৫

পীরগাছায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দূর্ণীতির অভিযোগ


পীরগাছায় তালুক ইসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম,দূর্ণীতির অভিযোগ অভিভাবক-শিক্ষর্থীদের মানব বন্ধন ও বিক্ষভ। পীরগাছায় তালুক ইসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্ণীতি বিরূদ্ধে অভিভাবক শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে । এ সময় তারা দূর্ণীতিবাজ ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন।

জানা গেছে,ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নূরূজ্জামান মন্ডল ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকাকালিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতিতে  জড়িয়ে পড়েন।  স্থানীয় অভিভাবকগন অভিযোগ করেন, ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় সহকারি শিক্ষক নূরূজ্জামান মন্ডলকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়।এরপর থেকে নানান অযুহাতে বিদ্যালয়ে না এসে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে তদ্ববির নিয়ে ব্যস্ত থাকেন । ফলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হয়।

এদিকে বিদ্যালয় উন্নয়ণে সরকারি বরাদ্দের টাকা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে আতœসাত করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, গত ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ বিদ্যালয়টিতে দূর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করলে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । সরকারি ভাবে  পুনঃ মেরামতের জন্য ষাট হাজার টাকা বরাদ্দ দিলে নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা আত্নসাৎ করেন।

অপরদিকে জমি বন্দকির বার হাজার টাকা,বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব ফুটবল টুর্ণামেন্টের বার হাজার টাকা, টিআর বরাদ্দের পনের হাজার টাকা আতœসাৎ করেন। অন্য একটি সুত্র জানায়, বিদ্যালয়ে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও বিশুব্ধ পানি সরবরাহের জন্য সরকারি ভাবে এক হাজার গ্যালন পানির ট্যাংক ও পানি উত্তোলনে ব্যবহারিত এক হর্স শক্তির একটি বৈদ্যুতিক পাম্প নিজে ও সহকারি শিক্ষক মন্জুমা বেগম যোগসাজসে নিয়ে গেছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পয়ঃনিষ্কাশন ও বিশুব্ধ পানি ব্যবহার করতে না পেরে বিড়ম্বনায় পড়েছে । ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর“জ্জামান মন্ডল আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানান,তিনি কোন প্রকার অনিয়ম,দূর্ণীতির সাথে জড়িত নন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালিন সময়ে বিদ্যালয়টি সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করেছেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল হালিম সরকার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন-ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হবার সুবাদে তার বিরূদ্ধে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিলেও কার্য্যত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুজ্জামানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এ কর্মস্থলে সদ্য যোগদান করায় অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে শুনেছেন। অভিভাবকরা অভিযোগ দিলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

রিপোর্টারঃ কাজী শহীদুল ইসলাম

পীরগাছার রেলওয়ে স্টেশনে ময়লা ও দূগন্ধে ভোগান্তি


রংপুরের পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশন অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। তার ওপর প্ল্যাটফর্মে নেই বসার কোনো ব্যবস্থও। আবর্জনা থেকে খাবার খেতে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের দল।

১৯৪৬ সালে পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। ভবনও নির্মিত হয় ওই একই বছর। এ স্টেশনের ওপর দিয়ে রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, বগুড়া, কুড়িগ্রামসহ আরও কিছু জেলায় রেলপথে যোগাযোগ গড়ে তোলা হয়।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের চারদিকে কাগজ, ঠোঙা, চিপসের প্যাকেট পড়ে আছে। টিনের শেডটি আটকানোর জন্য লোহার পিলারের নিচে যাত্রীদের চারটি বসার স্থান করা হয়েছে। এসব বসার স্থান নোংরা। এর পাশে ভবনের সামনের অংশে নর্দমা। সেটিও আবর্জনায় ভর্তি হয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে আে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সে সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে আছে ছাগল-ভেড়া-কুকুরের বিচরণ।

বগুড়া যেতে দোলনচাপা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন পীরগাছার ব্যবসায়ী মশিউর রহমান। তিনি বলেন, পীরগাছা থেকে বগুড়া যেতে ট্রেনেই সুবিধা বেশি। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে প্ল্যাটফর্মে তেমন কোনো বসার জায়গা নেই। আর থাকলেও সেটি বসার উপযুক্ত নয়।

পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার আবুল হাশেম বলেন, স্টেশনের বেহাল দশা দূর করার জন্য লালমনিরহাটের বিভাগীয় কার্যালয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এর কোনো উদ্যোগ নেই।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, বার্ষিক পরিকল্পনায় উন্নয়ন খাতে পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশন সংস্কারের কথা রয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি।

০৫ নভেম্বর ২০১৫

পীরগাছায় আবারো শিক্ষা উপকরণ বিতরণে অনিয়ম


রংপুরের পীরগাছায় প্রাইমারি স্কুল গুলোতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের পর এবার প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষা উপকরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের যোগসাজোসে এক উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিন্মমানের নাম মাত্র উপকরণ বিতরণ করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপকরণ ভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছে।

অভিযোগে জানা যায়, ২০১৪/১৫ অর্থ বছরে উপজেলার ১শত ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা উপকরণ তৈরী বা ক্রয়ের জন্য নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্দেশ মতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপকরণ ক্রয় করতে চাইলে বাঁধসাজে কর্তৃপক্ষ।

জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মনোনিত ব্যক্তি বিদ্যালয় গুলোতে উপকরণ বিতরণ করবেন। এ জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে উপকরণ বাবদ ৩ হাজার টাকা করে নেয়া হয়।

পরে শিক্ষা উপকরণ হিসাবে বিদ্যালয় গুলোতে আব্রাহাম লিংকনের চিঠি, শিক্ষার লক্ষ্য, শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষার করণীয়, ছাত্র-ছাত্রীদের পালনিয় ও প্রান্তিয় যোগ্যতাসহ মোট ৬টি ফ্যাস্টুন বিতরণ করেন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মনোনিত ব্যক্তিরা।

যার বাজার মূল্য ৪/৫ শত টাকা মাত্র। বাকী অর্থ কোন কারন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ উঠে। ফলে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা উপকরণ না পেয়ে উপকরণ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খলিলুর রহমান কাউনিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। গত ৭মাসেও তদন্ত না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত অর্থ বছরের উপকরণ বিতরণ অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হতে না হতে আবারো চলতি বছরে প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান প্রধানদের  উপকরণ  ক্রয়ে বাধা দেয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ইকবাল হোসেন। পরে ইকবাল হোসেন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিকট থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে নাম মাত্র শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।

যা বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৫ শ’ টাকা। ফলে উপকরণ ভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।

একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিজ উদ্যোগে উপকরণ ক্রয় করবেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে তাদের মাধ্যমে নাম মাত্র উপকরণ নিতে বাধ্য হই। উপকরণ বাবদ ৫ হাজার টাকা নিলেও  শুধু নাম মাত্র উপকরণ বিতরণ করেন।

উপকরণ বিতরণকারী সংশ্লিষ্ঠ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি উপকরণ ক্রয়ের বিষয়ে কিছু জানিনা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুজ্জামান বলেন আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে কিছু জানিনা।

সোর্সঃ অনলাইন লাইভ নিউজ ২৪

০৩ নভেম্বর ২০১৫

পীরগাছায় ভুয়া কবিরাজি চিকিৎসায় যুবকের মুত্যু


যুবক পুত্রের অকাল মৃত্যুতে মা গোলেনুর, বাবা আব্দুর রহিম, ভাই গোলজার, বোন, আত্নীয় সকলের মুখে কান্নার আহাজারি। গত ২রা নভেম্বর সোমবার রাতে রংপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন পীরগাছা ইউনিয়নের তেলিপাড়া নামক গ্রামের যুবক দেলোয়ার হোসেন।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে দুর্ঘটনার পর এটিএস নামক ইনজেকশন নিলে দেলোয়ারের এই অকালমৃত্যু হতো না বলে জানা গেছে। ১২ দিন পূর্বে দেলোয়ার হোসেন জনৈক ব্যাক্তির মটরসাইকেল নিয়ে চৌধুরাণী বোনের বাড়িতে যাবার পথে বকশির ডিগি নামক স্থানে একাকি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সামান্য একটু আঘাত প্রাপ্ত হন।

বাড়িতে এসে বিভিন্ন কবিরাজি চিকিৎসা সহ ঝাড়ফুক করে অসুস্থ হলে অবশেষে সুচিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রংপুর মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক সুচিকিৎসার জন্য রংপুর সদর হাসপাতালে দেলোয়ার হোসেনকে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ারের মৃত্যু ঘটে।

দেলোয়র মারা গেছে এ সংবাদ মোবাইলে অবগত হন আত্নীয় স্বজন। বিশেষ করে অকালে যুবকপুত্র দেলোয়ারের মৃত্যু হওয়ায় গোটা পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। গত ৩রা নভেম্বর মঙ্গলবার জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক করস্থানে দেলোয়ারকে দাফন করা হয়।

রিপোর্টারঃ তোজাম্মেল হক মুন্সি

০২ নভেম্বর ২০১৫

পীরগাছায় স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধু শাপলা


অবশেষে গৃহবধু শাপলা ন্যায়বিচার চেয়ে পীরগাছা থানা পুলিশের নিকট বিচার প্রার্থী হলেন। অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গৃহবধু শিমুল আক্তার শাপলা অবশেষে পীরগাছা থানায় স্বামী ও গং এর বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করলেন। আর এই হতভাগীনী গৃহবধুর ঘটনাটি ঘটেছে মহিষমুড়ির মুসুল্লিপাড়া নামক পল্লী গ্রামে।

আনুমানিক ১০/১১ বছর পূর্বে আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে একই গ্রামের কপিল উদ্দিনের ছেলে কামরুজ্জামান এর সহিত শাপলার বিবাহ হয়। বিবাহের কিছুদিন সুখ শান্তি হলেও অযৌক্তিকভাবে গৃহবধু শাপলার উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। মেয়ের নির্যাতনের কথা গোপনে জামাই কামরুজ্জামান ও তার অভিভাবকে জানিয়ে আসছিলো শাপলার বাবা সমাজসেবক শাহাব উদ্দিন।

সত্য প্রসঙ্গে বলতে হয় শাহাব উদ্দিন একজন অত্র গ্রামের সুপরিচিত মুখ। সমাজে এবং আত্নীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীর কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটলে তাকে সেই সব ছোটখাট অসামাজিক পারিবারিক ঘটনাগুলো নিস্পত্তি করতে হয়। বড়ই পরিতাপের বিষয় নিজের মেয়ের অশান্তির ছোয়া যখন তার কানে আসে তখন নিজেকে ছোট হয়ে থাকতে হয় সমাজের মধ্যে।

অবিশ্বস্য হলেও সত্য যে মেয়ের নির্যাতনের বিষয় দীর্ঘদিন ধরে শাপলা তার সুযোগ্য বাবাকে বলে আসছিলো কিন্তু বাবা সমাজিকভাবে মানবসমাজে চলাফেরার ফলে মেয়ের নির্যাতন শুধু বুকে বেধেই রেখেছিলো। কাউকে বলতোনা তার মেয়ে অশান্তিতে তথা জামাতা কামরুল কর্তৃক নির্যাতনের শিকার তার মেয়ে শাপলা।

পরিশেষে মেয়ে শিমুল আক্তারকে বাদীনি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন সহ অন্যান্য অপরাধের ধারা আনায়ন করে গত ২৯/১০/২০১৫ তারিখে মামলা দায়ের করেন। অসহায় বিচারপ্রার্থী গৃহবধু শাপলার দায়েরকৃত মামলাটি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় এর জন্য মামলার বাদীনি শাপলা বেগম ও তার পিতা সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার এসআই বেলালের শুভ নেকদৃষ্টি কামনা করেন।

রিপোর্টারঃ তোজাম্মেল হক মুন্সি

০১ নভেম্বর ২০১৫

পীরগাছায় মোট ৫টি কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত


সারা দেশের ন্যায় পীরগাছায় আজ ১লা নভেম্বর রবিরার জেডিসি, জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পীরগাছা উপজেলা সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার তথা জেডিসি, জেএসসি পরীক্ষার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোছাঃ আলিয়া ফেরদৌস জাহান সাংবাদিককে জানান, জেডিসি পরীক্ষায় মাদরাসা বোর্ডের অধীনে পীরগাছা হাজী ছফের উদ্দিন সিনিয়ার মাদরাসা কেন্দ্রে ১২শ ৫০ জন অপরদিকে পীরগাছা জেএন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রায় ১২শ ছাত্র ছাত্রী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে। কাশিয়াবাড়ি দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৩শ পরীক্ষার্থী, চৌধুরাণী পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ৯শ জন পরীক্ষার্থী এবং বড়দরগা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭শ ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করবেন।

পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহে কোন প্রকারের অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে এর জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে গোটা উপজেলায় মাইকিং করে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আইন শৃক্সখলার দায়িত্বে নিয়োজিত পীরগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম কর্মরত ওসি তদন্ত মোঃ নাজমুল সহ সকল পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে।

এদিকে যাতে শন্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় বিগত পরীক্ষার ন্যায়, সেই লক্ষ্যে পীরগাছার জেডিসি পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব মাওলানা হাবিবুর রহমান, পীরগাছা জেএন পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচীব আব্দুর রউফ সরকার বড়দরগা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব নুরুল ইসলাম খোকন কাশিয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরাণী উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মোঃ আশরাফুল ইসলাম ডালিম মন্ডল এবং এলাকার বিজ্ঞ মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।