পীরগাছায় তালুক ইসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম,দূর্ণীতির অভিযোগ অভিভাবক-শিক্ষর্থীদের মানব বন্ধন ও বিক্ষভ। পীরগাছায় তালুক ইসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্ণীতি বিরূদ্ধে অভিভাবক শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে । এ সময় তারা দূর্ণীতিবাজ ওই শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন।
জানা গেছে,ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নূরূজ্জামান মন্ডল ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকাকালিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় অভিভাবকগন অভিযোগ করেন, ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় সহকারি শিক্ষক নূরূজ্জামান মন্ডলকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়।এরপর থেকে নানান অযুহাতে বিদ্যালয়ে না এসে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে তদ্ববির নিয়ে ব্যস্ত থাকেন । ফলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হয়।
এদিকে বিদ্যালয় উন্নয়ণে সরকারি বরাদ্দের টাকা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে আতœসাত করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, গত ৫ জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ বিদ্যালয়টিতে দূর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করলে বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । সরকারি ভাবে পুনঃ মেরামতের জন্য ষাট হাজার টাকা বরাদ্দ দিলে নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা আত্নসাৎ করেন।
অপরদিকে জমি বন্দকির বার হাজার টাকা,বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব ফুটবল টুর্ণামেন্টের বার হাজার টাকা, টিআর বরাদ্দের পনের হাজার টাকা আতœসাৎ করেন। অন্য একটি সুত্র জানায়, বিদ্যালয়ে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও বিশুব্ধ পানি সরবরাহের জন্য সরকারি ভাবে এক হাজার গ্যালন পানির ট্যাংক ও পানি উত্তোলনে ব্যবহারিত এক হর্স শক্তির একটি বৈদ্যুতিক পাম্প নিজে ও সহকারি শিক্ষক মন্জুমা বেগম যোগসাজসে নিয়ে গেছেন। এর ফলে বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পয়ঃনিষ্কাশন ও বিশুব্ধ পানি ব্যবহার করতে না পেরে বিড়ম্বনায় পড়েছে । ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর“জ্জামান মন্ডল আনিত অভিযোগের বিষয়ে জানান,তিনি কোন প্রকার অনিয়ম,দূর্ণীতির সাথে জড়িত নন। তিনি দায়িত্বে থাকাকালিন সময়ে বিদ্যালয়টি সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করেছেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল হালিম সরকার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন-ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হবার সুবাদে তার বিরূদ্ধে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিলেও কার্য্যত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুজ্জামানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এ কর্মস্থলে সদ্য যোগদান করায় অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে শুনেছেন। অভিভাবকরা অভিযোগ দিলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
রিপোর্টারঃ কাজী শহীদুল ইসলাম
