০৫ নভেম্বর ২০১৫

পীরগাছায় আবারো শিক্ষা উপকরণ বিতরণে অনিয়ম


রংপুরের পীরগাছায় প্রাইমারি স্কুল গুলোতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের পর এবার প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষা উপকরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের যোগসাজোসে এক উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিন্মমানের নাম মাত্র উপকরণ বিতরণ করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপকরণ ভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছে।

অভিযোগে জানা যায়, ২০১৪/১৫ অর্থ বছরে উপজেলার ১শত ৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা উপকরণ তৈরী বা ক্রয়ের জন্য নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্দেশ মতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপকরণ ক্রয় করতে চাইলে বাঁধসাজে কর্তৃপক্ষ।

জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মনোনিত ব্যক্তি বিদ্যালয় গুলোতে উপকরণ বিতরণ করবেন। এ জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে উপকরণ বাবদ ৩ হাজার টাকা করে নেয়া হয়।

পরে শিক্ষা উপকরণ হিসাবে বিদ্যালয় গুলোতে আব্রাহাম লিংকনের চিঠি, শিক্ষার লক্ষ্য, শিক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষার করণীয়, ছাত্র-ছাত্রীদের পালনিয় ও প্রান্তিয় যোগ্যতাসহ মোট ৬টি ফ্যাস্টুন বিতরণ করেন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের মনোনিত ব্যক্তিরা।

যার বাজার মূল্য ৪/৫ শত টাকা মাত্র। বাকী অর্থ কোন কারন ছাড়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ উঠে। ফলে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা উপকরণ না পেয়ে উপকরণ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খলিলুর রহমান কাউনিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। গত ৭মাসেও তদন্ত না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত অর্থ বছরের উপকরণ বিতরণ অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত হতে না হতে আবারো চলতি বছরে প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান প্রধানদের  উপকরণ  ক্রয়ে বাধা দেয় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ইকবাল হোসেন। পরে ইকবাল হোসেন প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিকট থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে নাম মাত্র শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।

যা বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৫ শ’ টাকা। ফলে উপকরণ ভিত্তিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।

একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিজ উদ্যোগে উপকরণ ক্রয় করবেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে তাদের মাধ্যমে নাম মাত্র উপকরণ নিতে বাধ্য হই। উপকরণ বাবদ ৫ হাজার টাকা নিলেও  শুধু নাম মাত্র উপকরণ বিতরণ করেন।

উপকরণ বিতরণকারী সংশ্লিষ্ঠ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি উপকরণ ক্রয়ের বিষয়ে কিছু জানিনা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুজ্জামান বলেন আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে কিছু জানিনা।

সোর্সঃ অনলাইন লাইভ নিউজ ২৪

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিতে ফেসবুকে যোগাযোগ করুন