রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নামে-বেনামে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে খোলস পাল্টিয়ে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে জেএমবি। সম্প্রতি জেএমবির সামরিক শাখার দুই শীর্ষ নেতা বিষ্ফোরক ও অস্ত্র সহ গ্রেফতারের পর বেড়িয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। ফলে বড় ধরনের নাশকতার আশংকায় শংকিত হয়ে পড়েছেন উপজেলা বাসী। এদিকে পীরগাছা থানায় ৭ দিনের রিমান্ডে থাকা জেএমবি নেতা খয়বর আলম গত সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের দ্বিতীয় দিনে পুলিশের নিকট গুর“ত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইন-শৃংখলা বাহিনীর তেমন কোন তৎপরতা না থাকায় এ-উপজেলাকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করছে জেএমবি। তারা কল্যানী ইউনিয়নের পশুয়া, তাম্বুলপুর ও ছাওলা ইউনিয়নের দূর্গম চরাঞ্চল এবং কান্দি ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীর লোকদের ধর্মভীরুতার সুযোগ নিয়ে গোপনে তাদের দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা ওইসব এলাকার মানুষকে ধর্ম শিক্ষাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে সংগঠিত করছে।
একাধিক সূত্রঃ থেকে পাওয়া তথ্যে আরো জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক প্রশিক্ষিত জেএমবি সদস্য তাদের দাওয়াতি কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে পাঠাগার, কোচিং সেন্টার, ক্যাডেট মাদ্রাসা বানিয়ে অর্থ সংগ্রহ সহ সমর্থক তৈরী করছে। এছাড়া ও সুকৌশলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও জন প্রতিনিধিদের ওয়াজ মাহফিল এবং ইসলামী সংগীতানুষ্ঠানে অতিথি বানিয়ে সাধারন মানুষের দৃষ্টি কারার চেষ্টা চালায়।
তারা কল্যানী ইউনিয়নের পশুয়ার টাঙ্গাইল পাড়া গ্রামে অবস্থিত রিভাই ভাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি-কুয়েত’র অর্থায়নে নির্মিত মসজিদকে কেন্দ্র করে জেএমবি’র কার্যক্রম চালাতে থাকলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ওই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মাসুদ রানাকে আটক করে। পরে সে পুলিশের নিকট জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি’কে নিজ হাতে গুলি এবং কাউনিয়া উপজেলার পীরের মাজার খাদেম আওয়ামীলীগ নেতা রহমত আলীকে ধারালো ছোরা দিয়ে গলাকেটে হত্যা সহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের পিএস বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমীনকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করার কথা স্বীকার করে।
পরবর্তিতে যৌথ বাহিনী তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ৫৪টি হাতবোমা তৈরীর সরঞ্জাম, বিষ্ফোরক দ্রব্য ও ৩টি ধারালো ছোরা উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর পীরগাছা ও কাউনিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলায় তাকে আসামী করা হয়। ওই মামলা দায়েরের পর পীরগাছা থানা পুলিশ ৮ ডিসেম্বর বিকেলে পশুয়া হাতিবান্ধা গ্রাম থেকে অপর জে এম বি নেতা খয়বর আলমকে আটক করে। পরে তাকে বিষ্ফারক মামলার আসামী হিসেবে জেল-হাজতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে জেএমবি নেতা খয়বর আলম পীরগাছা থানায় পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ রিমান্ডে থাকা খয়বর আলম পুলিশের জ্ঞিাসাবাদে গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তা এখন প্রকাশ করা সম্ভব নয় ঐ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
রিপোর্টারঃ কাজী শহীদুল ইসলাম
