২১ অক্টোবর ২০১৫

পীরগাছায় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন হয়রানী


রংপুরের পীরগাছা সৈয়দপুর কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে পরীক্ষা কক্ষে যৌন হয়রানী করায় ফুঁসে উঠেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপার চেষ্টা চালানোয় গতকাল বুধবার সকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করে মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দেয় এলাকাবাসী। ঘটনাটি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার সকাল থেকে মাদ্রাসা হল রুমে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পরীক্ষা চলছিল। এসময় কক্ষে দায়িত্বরত শরীরর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রীর (নাম প্রকাশ করা হলো না) শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানী করতে থাকে। ঘটনাটি দেখে ফেলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। পরে তারা অধ্যক্ষ নুর মোহাম্মদ আলমগীর ও উপাধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক এর নিকট এর বিচার দাবীসহ ওই শিক্ষার্থীর পিতা জগতপুর গ্রামের ফজলুল হক ঠান্ডা লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ দাখিলের পরও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিচার না করে অজ্ঞাত কারনে কালক্ষেপন করতে থাকে। এসুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল জনৈক ইউপি সদস্য ও কথিত এক গণমাধ্যমকর্মীর মাধমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি চাপা দেন।

এব্যাপারে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আব্দুল আউয়াল, অভিভাবক আতিয়ার রহমান ও আফছার আলী বলেন, এঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না করে অধ্যক্ষের পরামর্শে উপাধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযুক্ত শিক্ষকের নিকট থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি ফাঁস হলে এলাকাবাসী বুধবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।

অধ্যক্ষ নুর মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, তিনি মাদ্রাসার কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ঢাকা থেকে ফিরে রোববার স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধান করবেন। 

পীরগাছা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি মাদ্রাসায় উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।
রিপোর্টারঃ Harun Ar Rashid

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিতে ফেসবুকে যোগাযোগ করুন