পরিচয়ঃ রংপুর জেলার পীরগাছা থানার অনন্তরাম গ্রামের মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তোজাম্মেল হক মুন্সি। পিতাঃ মরহুম জহির উদ্দিন মুন্সি, মাতা মরহুম রহিমা বেওয়া। ২ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি ৫ম। তার বড় জেঠ্যা মরহুম মহির উদ্দিন তৎকালিন মেম্বার ছিলেন। দাদা মরহুম আলহাজ্ব চেমরু ধণী বিশিষ্ট সমাজ সেবক ছিলেন।
ব্যক্তিত্বঃ সত্য প্রসঙ্গে বলতে হয় সাংবাদিক মুন্সি একজন ইসলামী মাইন্ডেড মানুষ। বংশগত রীতি হিসাবে ছাত্র জীবন থেকেই তিনি সকাল বেলা বাড়ির পাশে মুক্তবে কারী হিসাবে শিক্ষকতা করেন। তার কন্ঠস্বর সুমধুর কন্ঠস্বর সবাইকে আবিভূত করে।
ক্যারিয়ারঃ সাংবাদিকতায় তার রয়েছে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা। রংপুর থেকে প্রকাশিত মরহুম এডভোকেট আনিসুর জামান এর সাপ্তাহিক রাঙ্গা প্রভাত পরবর্তীতে দৈনিক রাঙ্গা প্রভাত পত্রিকার ১৯৮৭ সালে পীরগাছা প্রতিনিধি হিসাবে প্রথম সাংবাদিকতা শুরু করেন। ‘প্যকেট সাবধান’ ও ‘পাকিস্তানের কারাগারে ৪০ জন নরো নারী’ শিরোনামের দুটি সংবাদ দিয়ে তার লেখালেখি জীবনের সূচনা হয়। তারপর তিনি ১৯৯৩ সালে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। অতঃপর তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আলামিন পত্রিকায় ১৯৯৬ সালে লেখালেখি করেন। বর্তমানে রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক পরিবেশে ২৪ বছর ধরে পত্রিকাটির জন্মলগ্ন থেকে পীরগাছার নিজেস্ব প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন নিয়মিত।
অবদানঃ তার ছাত্র জীবনের প্রথম দিকে নিজেস্ব অর্থে একটি কাদরে-এলাহী ক্কারীয়ানা মাদরাসা স্থাপীত করেন এবং নিজেই শিক্ষকতা শুরু করে এলাকার ভবিষৎ প্রজন্মকে কোরআন শিক্ষা দিয়ে এলাকায় ব্যাপক সুনামের অধিকারী হন । বর্তমানে উক্ত ইসলামী প্রতিষ্ঠান অনন্তরাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে সুপরিচিত। উল্লেখ্য যে উক্ত প্রথমিক বিদ্যালয়টি দোতালা পরিণত সহ উন্নয়নের ছোয়ায় ভরপুর বলে তিনি সাক্ষাতে জানান।
এছাড়াও অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে পীরগাছা রেল ষ্টেশন জামে মসজিদের তৎকালীন কয়েকজন মুসল্লীদের নিয়ে নামাজ শুরু করেন ষ্টেশনের ফাকা পরিত্যাক্ত জায়গায়। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী বর্তমানে ষ্টেশন মসজিদের সেই নামাজ ঘর এখন বিশাল ফাউন্ডেশন তথা অত্র মসজিদ কমিটির সভাপতির আপ্রান প্রচেষ্টায় এবং বর্তমান খতিব আলহাজ্ব মহিউদ্দিনের সার্বিক সহযোগীতায় পীরগাছা রেল ষ্টেশন জামে মসজিদটি একদিকে যেমন ইয়ারকন্ডিশন অপরদিকে আল্লাহর অশেষ রহমতে দোতালার কাজ প্রায় শেষের পথে।
পেশাজীবনঃ লেখাপড়ার পাশাপাশি ১৯৭৮ সাল থেকে পীরগাছা বাজারে প্রথমে নেকমামুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যৌথ উদ্দগ্যে একটি লাইব্রেরীর ব্যবসা করেন। পরিশেষে বইয়ের ব্যাবসা বাদ দিয়ে নিজেস্ব উদ্দগ্যে নিরিবিলি নামে একটি পীরগাছা হাই স্কুলের জমিতে কাঠের ভাসমান দোকান দিয়ে পীরগাছা জেএন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীন শিক্ষক অবসরপ্রাপ্ত আবুবক্কর স্যারের জুবেদা লাইব্রেরীর পাশে একটি দোকান ঘর বসিয়ে পানের দোকান সহ বিভিন্ন মুদির দোকানের ব্যাবসা শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে দোকানঘর হাইস্কুলের জামিতে পজেশন নিয়ে ব্যাবসা করেন। বর্তমানে তার পীরগাছা বাজারে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে তিনি জানান।
সংসারজীবনঃ স্ত্রী আনজু মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে সাংবাদিক মুন্সির ৩৩ বছরের সুখ দুঃখের সংসার। বর্তমানে সাংবাদিক মুন্সির ২ ছেলে রাজু মুন্সি, মোঃ রাজিব মুন্সি ও ২ মেয়ে যথাক্রমে তহমিনা আক্তার লিপি ও ছোট মেয়ে তাম্মান্না আক্তার শিল্পি। বড় ছেলে অনার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকার পর ব্যাবসায় জড়িত এবং বিবাহিত। ছোট ছেলে রাজিব মুন্সি পীরগাছা ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষের ছাত্র । পাশাপাশি সে পীরগাছা আমাদের বার্তার নামক পত্রিকার সম্পাদক। বড় মেয়ে ডিগ্রি পাশ এবং বিবাহীতা এবং ছোট মেয়ে রংপুর রোকেয়া কলেজের অনার্স থার্ড ইয়ার এবং বিবাহীতা বলে জানা গেছে।
শিক্ষাজীবনঃ তিনি পীরগাছা হাজি সফের উদ্দিন মাদরাসায় পরে চৌধুরণী ফাতেহিয়া সিনিয়ার মাদরাসায় পরাশুনা করা কালীন মোংলাকুটি নামক গ্রামে শাজাহান ওরফে সাজু মন্ডলের বাড়িতে গৃহশিক্ষক (লজিং) মাষ্টার হিসাবে ছিলেন। তার লজিং থাকাকালীন ৮০ দশকে তার ব্যাবসার ফাকে একাধিক ছাত্র ছাত্রীকে পড়াতেন। তার অনেক ছাত্র ছাত্রী এখন বিভিন্ন উচ্চতর পেশায় নিয়োজিত বলে তিনি জানান।
শেষকথাঃ সাংবাদিকতায় তিনি পুরোপুরি সফল বলে তিনি জানান। দৈনিক পরিবেশের সম্পাদক ও প্রকাশক একেএম ফজলুল হক তার সাংবাদিকতার পিছনে অনেক অবদান রেখেছেন বলে সাংবাদিক মুন্সি অকপটে স্বীকার করেন। তার নাম সহ প্রকাশিত সংবাদের কপিগুলো এখনো তার কাছে জমা রয়েছে। বর্তমানে তার জীবন আল্লাহর অশেষ রহমতে স্ত্রী পুত্র ছেলে সন্তনকে নিয়ে তিনি ভালই আছেন । কারন তিনি বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলে নিয়োজিত নন। তিনি সকল দল মত নিবিশেষে প্রশাসনের সঙ্গে সু সম্পর্ক রেখে তার সাংবাদিকতার মত মহান পেশায় জড়িত। তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।
