২৪ অক্টোবর ২০১৫

পীরগাছায় আওয়ামীলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা


পীরগাছায় সদুরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত সদুরুল ইসলাম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। শুক্রবার রাতে পীরগাছার উপজেলার দামুড় চাকলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

ইটভাটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও খুনের বদলা হিসেবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে দাবি করেছেন পুলিশ ও এলাকাবাসী। এদিকে, খবর পেয়ে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নুল আবেদীনসহ জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ পীরগাছা থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত সদরুল ইসলামের সাথে একই এলাকার আসাদুজ্জামান রুজু’র ইটভাটার আধিপত্য নিয়ে ১ বছর পূর্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে আসাদুজ্জামান রুজুর চাচাতো ভাই খাইরুল ইসলাম নিহত হন। এঘটনায় সদরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে মামলা করা হলে ওই মামলায় গত ৩ ডিসেম্বর/১৪ সে আদালতে আতœসমর্পন করে। দীর্ঘ ১ বছর জেল-হাজতে আটক থাকার পর ১৪ সেপ্টেম্বর/১৫ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায় সদরুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গেলে এলাকাবাসী সন্দেহ পোষন করে বলেন, পূর্বের হত্যাকান্ডের জের ধরে সদরুল ইসলামকে খুন করে প্রতিশোধ নিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় তারা এই খুনের ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

বেলাল হত্যা মামলায় সদরুল মেম্বরকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আসাদুজ্জামান রুজু। মামলায় পুলিশ সদরুল মেম্বারকে গ্রেপ্তার হয়ে কয়েকদিন আগে জামিনে থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর শুক্রবার রাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

এলাকাবাসীর ধারণা সদরুল মেম্বারকে বেলাল খুনের বদলা হিসেবে খুন করেছে দুর্বত্তরা। ইটভাটায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য সদরুল ইসলাম খুনের ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে ১৫ ব্যক্তিকে আসামী করে মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী শিরিন আক্তার। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের থানা হাজতে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

থানা সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের দামুচাকলা বাজারের পার্শ্বে এমএমবি ইটভাটা থেকে ওই আওয়ামীলীগ নেতার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। পরে রংপুরের সিনিয়র এএসপি (বি-সার্কেল) সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সময় সদরুল ইসলামের সাথে থাকা মোটরাসাইকেল চালক আব্দুল জব্বার (৩৫), এমএমবি ইটভাটার নৈশ্য প্রহরী বুদ্ধি মেম্বার (৫০), আমির হামজা (৪০) ও হাজী আব্দুর রশিদ (৫৫) নামের ৪ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এদিকে নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দূর্বৃত্তরা নিহত সদরুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে এবং মৃত্যু নিশ্চিতের জন্য হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন। এঘটনায় নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ পেয়ে এজাহারনামীয় আসামী হিসেবে আটক আমির হামজাকে গ্রেফতার এবং অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখেন। তিনি বলেন, নিহত সদরুল মেম্বার পীরগাছা থানার একটি হত্যা ও নাশকতার মামলাসহ বেশক’টি মামলার আসামী এবং পুলিশের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন।

সোর্সঃ ওয়ান নিউজ বিডি ও Harun Ar Rashid

এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিতে ফেসবুকে যোগাযোগ করুন